বিয়ের দিনও পর্দা করা সম্ভব ইচ্ছা থাকলে

Comments · 23 Views

জীবন দিয়ে হলেও বোনেরা নিজেদের হেফাজত করুন, স্বামীর কথায় বেপর্দা হয়ে লাভ নেই। দু'জনকেই জাহান্নামী হতে হবে।

বিয়ের দিন শাড়ি গহনা খুলে বোরকা পড়তে চাওয়ায় আমার আম্মা খুবই বিরক্ত হলেন, একটানা কিছু রাগারাগিও করলেন। মানুষ কি বলবে, এতগুলো গয়না-শাড়ি কেন দিয়েছে?
আমি নাছোড়বান্দা, একটাই সিদ্ধান্ত আমার। বরপক্ষ থেকে শুধু মেয়েরাই আমার রুমে আসবে তারা দেখার পর আমি বোরকা পড়ে ফেলবো। আম্মু এগুলো শুনে রুম থেকে বের হয়ে গেল।
 
 
এরপর আমি বৌ সেজে বসে রইলাম, রুমে কয়েকজন পুরুষ মানুষ আমার চাচাতো ফুফাতো ভাইয়েরা ছবি তোলার জন্য ঢুকতে গিয়েও ব্যর্থ হলো। আজকের দিনেও সাক্ষাৎ না পাওয়া, বা ছবি তুলতে না পারায় তারা রাগে যেন গিজগিজ করছে।
 
 
শ্বশুড়বাড়ি থেকে লোক আসার পরপরই মেয়েরা হুড়মুড় করে বৌ দেখতে আসলো। সাথে পুরুষরা আসতে চাইলো আমি দরজা লাগিয়ে দিলাম। বিয়ের দিন, আমার উচিত লজ্জা পেয়ে মাথা নিচু করে বসে থাকা। কিন্তু আমি বিচলিত কোনো পরপুরুষ আসছে কিনা সেটা নিয়ে। কেউই তা ভালো চোখে নিচ্ছে না, পর্দা নষ্ট হলে কারো কোনো যায়ও আসবেনা।
 
বিয়ের আগে আমি আমার ননদকে মোবাইলে যখন বললাম, "আপনি আমার বোনের মতো, আমায় পর্দা করতে সাহায্য করুন। কোনো গায়ের মাহরাম যেন আমার রুমে না আসে।"
তিনি আমাকে আশ্বস্ত করলেন, আমার আপন ভাসুর ৩ জন + চাচাতো ভাসুর ১৫-২০ জন, চাচাতো শ্বশুড়, এলাকার কাছের আত্মীয় ছাড়া কেউই আমাকে দেখবেনা।
 
 
আমি অবাক হতে গিয়েও মনকে বোঝালাম, নিজের হেফাজত আজ নিজের ওসিলায়ই করতে হবে। এরপর আমার অর্ধাঙ্গের সাথে কথা বলে নিলাম, কবুল বলার পর আমি আপনার স্ত্রীই হয়ে যাবো। এরপর আমাকে যত মানুষই দেখুক, দাইয়্যূস হবেন আপনিই৷ এমনিতেই একটু হুজুর মানুষ, তারপর দাইয়্যূসের ভয় দেখানোটা কাজে লাগলো। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে গিয়েও সাপোর্ট দিলেন, এখনো দিয়ে যাচ্ছেন আলহামদুলিল্লাহ্।
 
সব মেয়েদের দেখা শেষ হলে দ্রুত বোরকা হিজাব নিকাব করে নিলাম। হুজুর বিয়ে পড়াতে আসলো, সাথে এসেছেন কমপক্ষে ৫০ জন পুরুষ। আশাহত হয়ে ফিরে যাচ্ছিলো, কেউ কেউ বলে যাচ্ছিলেন,"আরে সব ঢেকে রাখছে কিছু দেখার নাই"। আমার মনে একটা শান্তি অনুভূত হলো।
 
 
এরপর আবার সেই এক যুদ্ধ বৌভাতের দিন। ফুপু শ্বাশুড়ি জোর করে মেয়েদের মাঝে ওনার মেয়ের জামাইকে নিয়ে এসেছেন নতুন বৌ দেখাবে বলে। আমার অর্ধাঙ্গ কথা দিয়েছিলেন কোনো পুরুষ আসবেনা, তাই আমি বোরকাটাও পড়িনি।
রুমে গায়ের মাহরাম ঢুকেছে আমি কোনোভাবে বুঝতে পেরে সাথে সাথে শাড়ির আঁচল জড়িয়ে হিজাব পেঁচিয়ে ফ্লোরে বসে পড়ি। নতুন বৌয়ের কান্ড দেখে সবাই হয়ত অবাক হয়েছে। কিন্তু এরপর আর কারো সাহস হয়নি রুমে পুরুষ মানুষ ঢোকানোর।
 
এটা হলো আমার বিয়ের দিনে, একটা দ্বীনহীন পরিবেশে পর্দা ধরে রাখার একটা বিশাল বড় স্ট্রাগল। বিয়ের দিন কোনো পরপুরুষ আমাকে দেখেননি, কেউ আমাকে চক্ষু দিয়ে পরোখ করতে পারেননি। অনেক বোনেরা আছে, সারাবছর পর্দা করার পর এই দিনটাতে বিরতি নেয়। আর নিজের সবচেয়ে বড় সর্বনাশ করে ফেলে। আর ভাইয়েরা তো ইচ্ছে করে অথবা জোর করে দাইয়্যূস বানায় নিজেকে৷
 

এরপর শুরু আরেকরকম পথ চলা। প্রথম যেদিন ভাসুরের সামনে নিকাব করে গেলাম তখন তিনি মুখের উপর আমায় বললো এখানে কোনো বোরকা নিকাব চলবে না। আমি ঠাঁই দাঁড়িয়ে রইলাম কোনো কথা না বলে।
যৌথ পরিবারে বিয়ে হয়েছে, তিন ভাসুরের সাথে আমার পর্দা নিয়ে শুরু হলো লড়াই। ননদের ছেলেটাও আমাদের সাথেই থাকে।
 
 
বিয়ের পর সুন্নাতি জামা পড়ে বড় ওড়না দিয়ে শুরু করলাম শ্বশুড়বাড়ির পর্দা। নিকাব করে রান্নাঘরের যাবতীয় কাজ করতে হতো প্রচন্ড গরমের মধ্যে ও। বোরকা পড়ে বিয়ে করেছিলাম বলে কোনো গায়ের মাহরাম আমাকে দেখতে পারেনা।
এটা ছিলো আমার চাচাতো ভাসুরদের অন্যতম আক্ষেপ। তারা শুরু করলো লুকিয়ে আমাকে পর্যবেক্ষণ করা। আমি ঘুমিয়ে থাকলে হুটহাট জানালা খোলার চেষ্টা করতো।
 
 
একদিন রান্নার কাজে ব্যস্ত থাকার সময় আমার ননদ প্রচন্ড আক্ষেপের সাথে বলতে শুরু করলেন আমরা এত পর্দানশীল মেয়ে চাইনি। আমার মা চায় এমন একটা লক্ষ্মী বৌ আসবে যে সবার সাথে পুতুলের মতো হেসে খেলে গল্প করবে। আমি চুপ রইলাম। একদিন আমার বড় জা আমাকে ডেকে বললেন, "তোমার এ পর্দা তোমার ভাসুরের পছন্দ নয়!"
 
 
একটা মেয়ে চাইলেই পর্দা করার সুযোগ কম পায়। কিন্তু ভাইয়েরা যদি সাহায্য না করে তবে তা হয়ে যায় অসম্ভব রকমের কঠিন।জীবন দিয়ে হলেও বোনেরা নিজেদের হেফাজত করুন,স্বামীর কথায় বেপর্দা হয়ে লাভ নেই। দু'জনকেই জাহান্নামী হতে হবে।
 
আমি এই লিখাটা লিখেছি অনুপ্রেরণা হিসেবে, কেউ রিয়া খুঁজতে চাইলে আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ। আল্লাহ তাআ'লাই তার বান্দার নিয়্যাত এবং অন্তর সম্পর্কে অবগত।
 
Content from Facebook
Comments