বিয়ে মানেই দায়িত্ব গ্রহণ

Comments · 25 Views

বিয়ের আগে কোন সন্তান তার পিতা মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়েছে বলে কেউ কি শুনেছেন? এ ঘটনা ঘটে শুধু বিয়ের পরেই।

স্ত্রীরা সাধারণত স্বামীর বন্ধু হতে পারেনা। সারাজীবন 'গঁদ বাধা স্ত্রীই' থেকে যায়। কারণ টা মনে করি, বিয়ের পরে স্ত্রী রুপি মানুষটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে যায়। একভাগ পড়ে থাকে স্বামীর ঘরে, আরেকভাগ আজন্ম রয়ে যায় বাবার বাড়ি। অনেক সময় তো দেহটা শুধু থাকে স্বামীর ঘরে, মনটা পড়ে রয় পিতৃ ভিটায়।
 
আর স্বামী রুপি মানুষটি বিভক্ত স্ত্রী নামক মানুষটিকে সঁপে দেয় সর্বান্তকরণ। অর্ধাঙ্গিনী হিসেবে তার কাছেই মেলে ধরে এক জীবনের সুখদুঃখের সমস্ত ডালপালা। স্ত্রীর সবটুকু না পেলেও, নিজের সবটুকুই উজাড় করে দিতে চায়। একটা সময় আসে, স্ত্রীর সব কথাই সে শুনতে থাকে এবং মানতে থাকে, বৈধ বা অবৈধ , হয়তোবা মানতে বাধ্য হয়।
 
এর দৃষ্টান্ত কি নেই? আছে! এভাবেই স্বামীর মোবাইল থেকে ডিলিট হয়ে যায়, আদরের ভাই বোনদের নাম্বার।স্বামীর ফেসবুক থেকে আনব্লক হয়ে যায় স্ত্রীর অপ্রিয় দের নাম। এভাবেই দু-ভাইয়ের একই বাড়িতে গড়ে উঠে বিভক্তির দেয়াল। যে দুই ভাই একসাথে, একই মাদুরে খেতে বসতো,তাদের এখন দেখা হয় কদাচিৎ। শুধু মধ্যিখানে গড়ে উঠে দেয়ালের কারণে। এই দেয়ালের রচয়িতা কে? এভাবেই অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবে কখনো বাবা-মার চলে যেতে হয় অশ্রু সিক্ত নয়নে গুমট বাধা অন্ধকার কোন বৃদ্ধাশ্রমে।
 
বিয়ের আগে কোন সন্তান তার পিতা মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে দিয়েছে বলে কেউ কি শুনেছেন? এ ঘটনা ঘটে শুধু বিয়ের পরেই।
স্ত্রীর যা কিছু ব্যক্তিগত সম্পদ,স্ত্রী তাকে বলে 'আমার'। আর স্বামীর যা কিছু ব্যক্তিগত সম্পদ, স্বামী তাকে বলে 'আমাদের'।এখানেই প্রমাণিত হয়ে যায় নারী পুরুষের পার্থক্য, প্রমাণিত হয়ে যায় স্ত্রীর উপর পুরুষের শ্রেষ্ঠত্ব।
 
এর ব্যতিক্রমও আছে!
কিন্তু তা সহজলভ্য নয়,নিতান্ত বিরল।
 
খাদিজাতুল কুবরা (রাঃ)। তৎকালীন মক্কার সবচেয়ে বড় ধনী ব্যবসায়ী। কিন্তু বিয়ের পরে নিজের সমস্ত সম্পত্তি সমর্পণ করেছিলেন স্বামী রাসুল (সাঃ) এর সমীপে।
 
উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহঃ)। তাঁর স্ত্রী ছিলেন বাদশাহ মালেকের কন্যা। বিয়ের সময় বাদশাহ কন্যার সাথে বিপুল ধন,রত্ন সামগ্রী দিয়েছিলেন। উমর ইবনে আব্দুল আজিজ (রহঃ) স্ত্রীকে বলেছিলেন, তুমি কি আমাকে চাও?নাকি রত্ন সামগ্রী চাও? সার্থক স্ত্রী বলতে পেরেছিলেন, 'আমি আপনাকে চাই'।
বর্তমান একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, (একজন ব্যাংকারের দশ বছরের অভিজ্ঞতা) ৯০ ভাগ পুরুষ একাউন্ট ওপেন করার সময়ে নমিনি দেন তার স্ত্রীকে আর ৯৫ ভাগ নারী একাউন্ট ওপেন করার সময়ে নমিনি তার স্বামীকে দিতে চায় না। ২০ ভাগ পুরুষ সঞ্চয়ের সময় সবটুকুই স্ত্রীর নামে সঞ্চয় করতে চায়, পক্ষান্তরে, ২ ভাগ স্ত্রীও তাদের সঞ্চয় স্বামীর নামে করতে চায় না।
তারপরও পুরুষ আজীবন সয়ে যায়, স্ত্রীর অসন্তুষ্টি আর অতৃপ্তির চাহনি। তারপরও পুরুষ গাধা হতেই ভালবাসে, জীবনের সমস্ত কঠিন ভার বয়ে বেড়াবার জন্য।
 
এই জন্যই হয়তো রাসুল (সাঃ) বলেছেন,
আল্লাহর পরে আমি যদি কাউকে সিজদাহ্ করার হুকুম দিতাম, তাহলে স্ত্রীদের বলতাম তোমরা তোমাদের স্বামীকে সিজদাহ্ কর।।
 
- লেখাঃ Md. Shahin Alom
(লেখাটা কাউকে আঘাত করবার জন্য নয়। এটা আমার একান্ত নিজস্ব মতামত। আমার সঙ্গে কেউ দ্বিমত পোষণ করতে পারেন। আমি মেনে নেব নিঃসংকোচে)।
Comments